মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৮

সফলতার কটুকথা

পৃথিবী জুড়ে মানুষের সংগ্রাম সফল হওয়ার। সফল হওয়ার জন্য মানুষের রাত-দিন তুমুল সংগ্রাম, কঠোর পরিশ্রম, দ্বন্দ্ব-হিংসা, স্বার্থের বিবাদ। কিন্তু কোথাও যেন পাওয়া যায় না সত্যিকার সফল নিখাদ। সফল হওয়ার শত শত কৌশল নিয়ে শত শত বই বেরিয়েছে। শত শত বই শত কোটি মানুষ পড়ছে। কিন্তু সত্যিকারের সফল মানুষ কি আমরা পাচ্ছি? কিংবা যাদের আমরা সফল বলছি তারা কি সত্যিকারের সফল ? মানুষ ও সৃষ্টির কল্যাণে তারা কি আনছে কোনো সুফল?
এখানে আমি কিছু প্রশ্ন রেখে যাব- বিশ্ব মানবতার মহানবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (সাঃ), যীশু খ্রিস্ট, গৌতম বুদ্ধ, স্বামী বিবেকানন্দ, কিংবা কনফুসিয়াস প্লেটো, নিউটন, এরিস্টটল, আইনস্টাইন, লুই পাস্তুর, গ্যালিলিও, জেমস ওয়াট, মাইকেল ফ্যারাডে, টমাস এডিসন কিংবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জর্জ ওয়াশিংটন, মার্টিন লুথার কিং, ল্যানসন মেন্ডেলা, কিংবা মাদার তেরেসা, হেনরী ডুনান্ট সহ এরকম শত শত প্রকৃত সফল মানুষগণ সফলতার জন্য কি কোন বিশেষ বই/বই সমূহ পড়েছেন? তারা কি লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে গেছেন সফল খেতাব পেতে? তারা কেনইবা সফল? এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর আপনি নিজেই পাবেন আর বুঝবেন আসলেই সফলতা কি? আর তখন আপনার হা-হুতাশ, ফুটানি-ফাটানি, অহংকার-উলম্পন, হিংসা-বিদ্ধেষ, আক্ষেপ-আফসোস কিছুই থাকবেনা।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা, পারিবারিক-সামাজিক ও পারস্পরিক প্রত্যাশা এবং মূল্যবোধের দূষণে সৃষ্ট বিবেকের বধিরতা, অন্ধত্ব সর্বোপরি পক্ষগাতগ্রস্ততার কারণে আমরা সফলতার এক আশ্চর্য সংজ্ঞা দাড় করিয়েছি। আর ভোগবাদী বা পূজিবাদী মানদন্ডে সেই সফলতাকে বিচার করছি। সেই মানদন্ড আমাদের আবহমান বাংলার মূল্যবোধের মানদন্ডে যাচিত সফলতাকে বহুকাল আগে কবর দিয়েছে। আমরা সেই সব কথিত মানদন্ডে সফলতা/বিফলতা নির্ণয় করি, উৎসাহিত/হতাশ হই, পুরস্কৃত/তিরস্কৃত হই। ক্ষেত্র বিশেষে সফলতার এমন দেমাগ/অহংকারে পূর্ণ হই যে ধরাকে সরাজ্ঞান করি, নিজেকে ছাড়া কাউকে মানুষ ভাবিনা কিংবা বিফলতায় এমনই মুুষড়ে পড়ি যে আত্মহননের পথ বেছে নিই।
আমাদের বর্তমান সমাজ ভোগবাদী, সম্পদ আর ক্ষমতার পূজারী। কারণ অবাধ ইন্টারনেটে ভোগবাদীতার, সুখের, সম্পদের প্রচার প্রচারণা এবং আকাশ সংস্কৃতির কারণে সম্পদ গড়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের অনুপ্রবেশ। এই সমাজ আমাদের মনে সফল লোকদের একটি চিত্র এঁকে দিয়েছে। সেই চিত্র ধরে আমরা এগিয়ে যাই। ইন্টারনেটে সার্চ দিলে লক্ষ লক্ষ লিখা, এ্যাপস, বই আর ওয়েব সাইট আসবে সফল হওয়ার রোডম্যাপ আর তরীকা বুঝাতে কিন্তু হলফ করে বলতে পারি তাবত বই ঝাড়া মুখস্ত করে, তাবত এ্যাপস ডাউনলোড করে মস্তিষ্কে আপলোড করেও আপনি সত্যিকারের সফল হবেন না। আপনাকে সফল হতে হলে জানতে হবে, অনুধাবন করতে হবে সফলতা জিনিসটা কি।
গোল্ডেন সভ্যতার শুরুতে এক মা তার সন্তানকে এইচএসসি তে ভালো জিপিএ না পাওয়ায় ঘর হতে বের হয়ে যেতে বলেছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে ছেলেটি দুঃখ-কষ্টে পরিবারের মানুষের খোঁচাখুঁচিতে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সে তা করেনি। আজ সে সরকারি মেডিকেল হতে পাস করা ডাক্তার। সেদিন সে ছিল পরিবারের কাছে ব্যর্থ পরবর্তীতে মেডিকেল ভর্তির পর থেকে সে তার পরিবার ও সমাজের নিকট হয়েছে সফল ব্যক্তি। একদা তার মা কে আমি বলতে শুনেছি যে, “আসলে তিনি সে সময় ছেলের ফলাফল নিয়ে বেশি পরিমান চিন্তিত ছিলেন; ভেবেছিলেন তার ছেলে গোল্লায় গিয়েছেন”। ডাক্তার হওয়াতে ছেলে গোল্লায় যাননি বলে আমাদেরও ধারণা। আচ্ছা ধরুন তিনি ডাক্তার কিন্তু রোগী পাননা কিংবা ঘরে ঘরে গিয়ে বিনা “ফি” তে বা নামমাত্র “ফি” তে রোগী দেখেন। উল্লেখিত দুই ক্ষেত্রে তিনি বাড়ি/গাড়ী কিছুই করতে পারেননি তখন কি সেই ডাক্তারকে আমরা সফল বলি? নাকি আমার বলি, “কি ডাক্তারী পড়ল বাড়ী/গাড়ী কিছুই নাই, বটতলার ডাক্তার”। উদাহরণটা ডাক্তার দিয়ে দেওয়া হলেও সকল পেশার ক্ষেত্রে এটি সত্য।
জীবনের নানা পর্যায়ে সফলতার রুপ একেক রকম। ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়া তারপর ভালো কলেজে/বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া তারপর ভালো চাকুরী/ব্যবসা করা তারপর ভালো টাকা-পয়সা, বাড়ী-গাড়ী করা এটাইতো এখন সফল ব্যক্তির সংজ্ঞা। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিষ্টার, বড় চাকুরী/বিসিএস ক্যাডার/বড় ব্যবসায়ী হলে আমরা অবলীলায় তাকে সফল বলছি; আর এর বাইরে যারা এসব হননি তাদের বিফল বলি। প্রশ্ন হলো তাদের বিফল বলার অধিকার কে আমাদের দিয়েছে? আসলে আমাদের সমাজে সফল মানুষের ধারনাটা এরকম-
তিনি ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার/ব্যবসায়ী/বিসিএস ক্যাডার/বড় চাকুরীজিবী হবে, তিনি প্যান্ট-শার্ট ইন করা চকচকে জুতা পরিহিত ব্যক্তি হবে, ফ্ল্যাট, বাড়ি ও গাড়ি থাকবে এবং অনেক লোকজন তাকে চিনবে ও ভয় পাবে (শ্রদ্ধা করতেও পারে নাও পারে)।
এই বিচিত্রভাবে চিত্রিত চিত্র দেখে আতংকিত হবে। কিন্তু এটাই মানুষের মনে, আকাঙ্কার কোণে প্রবল প্রতাপে লুকায়িত সফলতার রূপ।
আমাদের এই সফল মানুষ হওয়ার সংজ্ঞা থেকে ভালো মানুষ হওয়াটা কেমন জানি ফিঁকে হয়ে আসছে। বস্তুত অর্জনই মুখ্য, অর্জনের পদ্ধতি একেবারে গৌণ। তাইতো দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা, বার্ষিক পরীক্ষা, বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। আর এসবের ক্রেতা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকও। সমাজ মূল্যায়ন করছে চোরাকারবারী/ ঘুষখোর/ চাঁদাবাজ/ কালোবাজারী/ মুনাফাখোর/ সম্পদবাজদের। সৎ কিন্তু দরিদ্র লোকের মূল্যায়ন তাই নেই। এই যে অসুস্থতা, অসুস্থ সফলতা আর তা অর্জনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা এটি মানুষকে বীকারগ্রস্থ করে তুলেছে। তাইতো, বোর্ড পরীক্ষায় ফেল করে আত্মহননের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে সম্পদের লড়াইয়ে খুনের ঘটনাও। একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো আমরা/আমি/আপনি কি কখনো বলিনি- অমুক ফ্ল্যাট কিনলো; তুমি কি করলা? অমুক ঐ চাকুরী করে; তুমি কি করলা? অমুক বুয়েটে/ডাক্তারী/আইবিএ/বিসিএসে চান্স পেয়েছে; তুমি কি করলা? আমাদের এই চাওয়াটা বস্তুগত/সম্পদগত অর্জনে, গুণগত অর্জনে নয়। আমাদের তুলনা বস্তুগত অর্জনের সাথে, মেধা ও গুণভিত্তিক অর্জনের সাথে নয়। এই যে সফলতার তুলনা তা সত্যিকারের সফল মানুষ তৈরী করেনা। এই তুলনা ক্ষেত্র বিশেষে বিপথে কথাকথিত সম্পদ অর্জনে সফল করে। তাহলে সফলতা কি? কিভাবে সফল হওয়া যাবে?
সফলতার প্রথম সূত্র “তুলনা না করা”। কখনোই অন্যের ধন-সম্পদ, পেশা ও পড়ালিখার সাথে তুলনা করবেনা। নিজের সন্তানদের ক্ষেত্রেও এরকম করবেন না। যেটি করবেন বা করছেন সেটি সঠিকভাবে নিষ্ঠা ও সততার সাথে করুন। কে কোথায় পড়ে, কি করে, কি করেছে তা চিন্তা না করে আপনার কাজ আপনি করুন। তুলনা করা শুধু শিক্ষা বা কর্মজীবনেই নয়, পারিবারিক জীবনেও বিপদ ডেকে আনে। একটা ছোট, পুরাতন কিন্তু অর্থবহ উদাহরণ দিই- প্রায়ই স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের বলে, “ওমুক তোমার মত একই চাকুরী করে গাড়ী কিনেছে, বউকে গহনা দিয়েছে, তুমি এই জীবনে আমাকে কিছুই দিলেনা”। এইখানেই স্ত্রী তার স্বামীর মনে ব্যর্থতার বেদনা উসকিয়ে দেন। আফসোস্ এখানে যে এতোদিন যে নির্ভেজাল ভালোবাসা স্বামী স্ত্রীকে দিয়েছেন তা ঐ গহনা/গাড়ী না দেওয়ার কারণে “কিছুই দিলে না হয়ে গেল”। নিখাদ ভালবাসার চাইতে সম্পদটাই মুখ্য হয়ে গেল। একই কথা স্বামীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
একইভাবে সন্তানদের আমরা বলি, “ওমুক তো ঐ স্কুল/কলেজে চান্স পেল। তুই তো পেলিনা। তোদের জন্য আমি কি করিনি। এখন কিভাবে মুখ দেখাবো”? আরে, ঐ স্কুল/কলেজ ছাড়া কি কোনো স্কুল/কলেজ দেশে নাই? বা ঐ স্কুল থেকেই কি দেশের সব ভালো মানুষ/সফল মানুষ তৈরী হয়? আমার সহজ কথা স্কুল, কলেজের চাইতে সে প্রকৃতই কি শিখছে তার উপর গুরুত্ব দিন। কার ছেলে/মেয়ে কি পড়ছে, কই পড়ছে তার সাথে তুলনা করা বন্ধ করুন। মনে রাখবেন দুইজন মানুষের সফলতার রাস্তা কিন্তু এক না। এই তুলনা করা বন্ধ করতে পারলেই আপনি সফলতার রাস্তায় পৌঁছে যাবেন। মনে রাখবেন “তুলনা করা” মানুষকে প্রায়ই বিপথে ঠেলে দেয়।
দ্বিতীয় যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হল- সফলতাকে কেবলমাত্র বস্তুগত অর্জন দ্বারা পরিমাপ না করা। বড় চাকুরী/ব্যবসা, গচ্ছিত সম্পদ, বাড়ি-গাড়ী দ্বারা সফলতাকে যাচাই করাটা সবচেয়ে বড় ভুল। অর্জনটাকে প্রাধান্য দেওয়ার চাইতে অর্জনের পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই কথা শিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নকল করে গোল্ডেন জিপিএ পেলে লাভ কি? ভেতরটা তো “গোল্ডেন উঁপশ” ই থাকবে। ছাত্র-ছাত্রীদের বলি ফলাফল ওরিয়েন্টেড না হয়ে, জ্ঞান ওরিয়েন্টেড হতে হবে। মনে রাখতে হবে, GPA is nothing but a digit, but knowledge is eternity”। রেজাল্ট সাময়িক আনন্দ বা সাফল্যের অস্থায়ী সুখ দিতে পারে। কিন্তু জ্ঞান সীমাহীন আনন্দ ও স্থায়ী সাফল্য দিবে। আর এই কথাটা যদি আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা কিংবা অভিভাকরা উপলদ্ধি করে শপথ করে বলতে পারব রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারণে কোনোদিন কেউ আত্মহত্যা করবেনা। সার্টিফিকেটধারী হওয়ার চাইতে সৎ গুণের অধিকারী হওয়াটাই মুখ্য।
ঘুষ খাওয়া বড় সরকারী চাকুরীজীবি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ঔষুধ কোম্পানীর নিকট হতে কমিশন খাওয়া বেরহম ডাক্তার, আদর্শ বিবর্জিত ধান্দাবাজ নামী শিক্ষক, শ্রমিকের বেতন আর ব্যাংক ঋনের টাকা মারা ব্যবসায়ীদের কিংবা লোকচক্ষুর আড়ালে অবৈধ কারবার করে রাতারাতি ধনী হওয়া ছদ্ধবেশীদের আল্লাহ ওয়াস্তে সফল মানুষ বলবেন না। ওদরে বলবেন “চোর”। রাস্তাঘাটে দেখলেই দুর থেকে দেখাবেন “ঐ যে সফল চোর”।
তৃতীয় বিষয়টি হলো সফলতাকে কোনো অবস্থাতেই কোনো বিশেষ মুহূর্তেও অর্জন দ্বারা যাচাই না করা। মনে করুন আপনার সন্তান অমুক স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি; তাই বলে সে কি বিফল? কিংবা আপনি কাঙ্খিত চাকুরী পাননি তাই বলে কি আপনি বিফল? আর এসব পেলেই কি আপনি সফল? মনে করুন আপনি ভালো স্কুল কলেজে পড়ে ভালো চাকুরী/ব্যবসা করে সম্পদ গড়েছেন। কিন্তু আপনার দ্বারা মানুষের এক বিন্দু কল্যাণও হয়নি। তাহলে এই অর্জনের কি কোন মূল্য আছে? কেন আপনি ভাবছেন “এটা” হতে পারেননি বলে আপনি বিফল। হাজারটা “ওটা” আছে। যেখানে হয়তো আছে আপনার সাফল্যের বীরত্বগাঁথা।
চতুর্থত যা-ই করবেন সৎভাবে, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের সাথে বৈধ পথে করবেন। এতে যা-ই ফলাফল, সেটাই সাফল্য। সৎ পথে সৎভাবে কাজ করে যে ফল তা-ই সফল। নকল করে/প্রশ্নপত্র পেয়ে পরীক্ষায় গোল্ডেন পাওয়া শিক্ষার্থী সাময়িকভাবে বাহবা পেতে পারে কিন্তু জীবন চলার পথে সে ধরা খাবেই। আর তার আত্মতুষ্টিও থাকবে না। নিজের কাজে সে আজীবন সফল নয়, চোরই থাকবে। এটা শুধু শিক্ষা জীবনে নয়, কর্মজীবন, পারিবারিক জীবনেও সত্য। আপনি নিজেতো জানেন আপনি কি। কারো চাকচিক্য, বাহারী জীবনযাপন দেখে নিজেকে বা নিজের সৎ অর্জনকে তুচ্ছ ভাববেন না।
পরিশেষে উপরোক্ত সূত্রানুযায়ী আপনি ৫০ ভাগ সফল হয়ে গেছেন আর ৫০ ভাগ শুধু একটি কাজ করলে সমাপ্ত হয়ে যাবে। সেটি হল যা কিছু আপনার অর্জন তা সকলের সাথে কিি ৎ হলেও ভাগ করে নেওয়া বা আপনার অর্জন মানব ও সৃষ্টির কল্যাণে ব্যবহার করা। লেখার শুরুতে যে প্রশ্ন করেছিলাম তার উত্তর নিশ্চয়ই পেয়ে গেছেন। তারা বিখ্যাত হয়েছেন শুধু মানুষ আর সৃষ্টির কল্যাণে আমৃত্য সংগ্রাম করে, টাকা-পয়সা জমিয়ে নয়। পলান সরকার কিংবা ময়মনসিংহের রিক্সাচালক ষার্টোধ জয়নাল আবেদীন এর কথা জানেন? নাহ্ আমি বলবোনা। আপনারাই খুঁজে নিন। সফল তো সেই ব্যক্তি মৃত্যুর পর যার শূণ্যতায় মানুষের মন কেঁদে উঠবে। চোখের কোণে নোনা জমে অজান্তে বলে উঠবে “আহ্, লোকটা বড় ভালো ছিল”। এটাই সাফল্য।
সত্যিকারের সফল মানুষরা সুখী। সকল সুখী মানুষরাই সফল। সুখের জন্য খুব বেশী কিছু দরকার নেই। প্রয়োজন একটি পরোপকারী, নির্লোভ নিস্বার্থ সৎ জীবন।
লেখক : মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম
সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার, বাংলাদেশ পুলিশ।

মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৫

ভালবাসার গভীরতা



আজ রাতে যে মেয়েটি মারা যাবে তার পছন্দের ফুল জবা তার ক্যাবিনে অনেক গুলো জবা ফুল সাজিয়ে রাখা হয়েছে এই কাজটি যে করেছে তার দুটি পরিচয় আছে প্রথমটি হল তিনি এই রোগীটির ডাক্তার দ্বিতীয়টি হল এই মেয়েটি তার স্ত্রী গতকাল বিয়ে করেছেন একজন মৃত্যুপথ যাত্রিকে বিয়ে করার বিষয়টিকে তিনি পাগলামি মনে করছেন না এই মেয়েটি তার সাথে সাতশ তেরো রাত জেগে ছিল ভোরের দিকে যখন সে ঘুমিয়ে যেত তখনও মেয়েটি ফোন সেট কানে দিয়ে রেখেছে মাঝে মাঝে ঘুমের ভেতরে তার কথা বলার অভ্যাস; তখন মেয়েটি ফিসফিস জবাব দেয়; ‘ভয় পেও না, আমি আছি বছর তিনেক আগে তার বাবা রোড এক্সিডেন্টে মারা গেলেন মেয়েটি তাকে সান্ত্বনা দিতে এসে নিজেই কেঁদে অস্থির একদম চোখ ফুলিয়ে, কিছু না খেয়ে থাকল দু দিন কুরআন খতম দিল শেষ রাতে ওজু করে তাহাজ্জুদের নামজ পড়ে বলেছে ' ‘ভয় পেও না, আমি আছিমেডিক্যাল হোস্টেলে থাকা অবস্থায় এই মেয়েটি প্রতি রবিবার তার হাতের রান্না টিফিন ফ্লাক্সে করে দিয়ে যেত এক্সামের আগে একটা একটা চ্যাপটার মুকস্ত করে তাকে পড়া দিতে হত একজন সারারাত পড়েছে; সে ডাক্তার হবে অন্যজন সারা রাত জেগেছে সে কাছের মানুষটিকে সফল দেখতে চায় এই মেয়েটিকে সে অনেকবার কথা দিয়েছে পকেটে যখন টাকা ছিল না তখন দিয়েছে, রবিবার টিফিন ফ্লাক্স হাতে পেয়ে কথা দিয়েছে একশ চার ডিগ্রী জ্বর নিয়ে কথা দিয়েছে; এই মৃত্যু পথ যাত্রী মেয়েটিকে বিয়ে করার বিষয়টিকে তিনি মোটেও পাগলামি মনে করছেন না আজ রাতে এই মেয়েটিকে বারবার বলা দরকার , ‘ভয় পেও না, আমি আছি’ ......কোন এক যুদ্ধে একজন যোদ্ধা গুলি খেয়ে মাটিতে পরে গেল তার পাশের সৈনিক তাকে যখন কাঁধে নিয়ে নিরাপদ জায়গায় যাবার চেষ্টা করছিল তখন তাদের ক্যাপ্টেন তাকে নিষেধ করল ''যে গুলি খেয়েছে সে এমনিতেই মারা যাবে; তাকে বাঁচাতে গিয়ে তুমি নিজেও মারা যাবে'' সৈনিকটি ক্যাপ্টেনের কথা না শুনে আহত যোদ্ধাকে কাঁধে নিয়ে ছুটলেন যুদ্ধ শেষ হল আহত যোদ্ধাটি একসময় মারা গেল; ক্যাপ্টেন তাকে বলল, ''তাকে কাঁধে নিয়ে এত রিস্ক নিয়ে কী লাভ হয়েছে? সে তো ঠিকই মারা গেল'' সৈনিকটি জবাব দিল, ''অনেক কিছুই হয়েছে মরে যাবার আগে তার শেষ কথা ছিল - বন্ধু আমি জানি তুমি ঠিকই আমার পাশে থাকবে'' সুনীলের কেউ কথা রাখে না কবিতার ভিড়েও কেউ কেউ ঠিকই আছে, যারা মানুষকে দেয়া কথা গুলো রাখার সময় ক্যালকুলেটার নিয়ে প্লাস মাইনাস হিসেব করে না হিসেব জানা ভাল নাহলে বাজারের বিক্রেতা ঠকিয়ে দিবে সবাই বিক্রেতা না সবাই তোমার কাছে বাণিজ্য করতে আসে নি কেউ দুচোখে কাপড় বেধে অন্ধের মত ভালবাসতে এসেছে ; তার সাথে বাণিজ্যে যেও না হিসেব করে ব্যবসা হয় ; ভালবাসা না

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৫

These “emotional heat maps” provide a glimpse into where people feel things.


People were asked where they felt certain emotions. Areas of increased activity were colored to look like fire, and areas of decreased activity look like ice.These “emotional heat maps” provide a glimpse into where people feel things. But there’s a lot more to an emotional story than location. What precipitated the emotion? How did it feel? How much did you allow yourself to feel it?If you didn’t feel the whole thing, did it simply vanish, or is it still waiting there, crouched in your knees or heart or stomach, smoldering and fidgeting?This gif was created by me from materials inside a scientific paper written by Lauri Nummenmaa, Enrico Glerean, Riitta Hari, and Jari K. Hietanen.

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ওডেস্কে যেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়

অনলাইনে আউটসোর্সিংয়ের কাজ দেওয়ার-নেওয়ার জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে অনেক সময় কাজদাতাদের কাছে স্প্যাম ও কপি-পেস্ট করা কভার লেটার চলে যায়। এগুলোর হাত থেকে বাঁচতে এবং মুক্ত পেশাজীবীদের (ফ্রিল্যান্সার) দক্ষতা যাচাই করতে কাজ দেওয়ার সময় কিছু প্রশ্ন রেখে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। প্রশ্নগুলোর উত্তর দেখেই কাজদাতা বা ক্লায়েন্ট বুঝতে পারে কাজটি কারা করতে পারবে। নতুন ফ্রিল্যান্সাররা অনেক সময় প্রশ্নগুলো বুঝতে পারেন না। তাই তাঁরা প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর দিতে পারেন না, ফলে কাজ পান না। ওডেস্ক জব পোস্টে সাধারণত যে ধরনের প্রশ্ন থাকে—
১. প্রজেক্টটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আপনার কোনো সাজেশন আছে কি?
২. এই কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো ওডেস্ক টেস্ট কি দিয়েছেন এবং সেগুলোতে কি ভালো করেছেন?
৩. এই কাজের কোন অংশটুকু আপনার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে?
৪. ঠিক এ রকম কোনো প্রজেক্টে কি আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে, যদি থাকে তবে কেন কাজটি করেছিলেন?
৫. প্রজেক্টের কোন অংশটি সম্পন্ন করতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগবে বলে আপনার মনে হয়?
৬. এই প্রজেক্ট নিয়ে কোনো প্রশ্ন আছে কি?
এখানে এমন কোনো প্রশ্ন নেই যা সহজে বোঝা যায় না। যারা কাজটি ভালোভাবে বুঝবেন এবং করতে পারবেন তাঁরা অবশ্যই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবেন। যাঁরা কাজটি ভালোভাবে বুঝতে পারেননি বা করতে পারবেন না তাঁরা হয়তো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবেন না। তাই আপনার যদি কাজ জানা থাকে তাহলে কভার লেটার লিখতে এবং কাজ পেতে কোনো সমস্যা হবে না।

উইন্ডোজ ১০–এর কি–বোর্ড শর্টকাট

উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমে বেশ কিছু কি-বোর্ড শর্টকাট রয়েছে। এই কি-বোর্ড শর্টকাটগুলো উইন্ডোজ ১০-এর পাশাপাশি ৭ বা ৮.১-এও চলবে।

নতুন বৈশিষ্ট্যগুলোর শর্টকাট
Windows key + A: অ্যাকশন সেন্টার খুলবে।
Windows key + C: করটানা কণ্ঠ নির্দেশনার জন্য তৈরি হবে।
Windows key + I: সেটিংস অ্যাপ্লিকেশন খুলবে।
Windows key + S: করটানা চালু হবে।
Windows key + Tab: টাস্ক ভিউ দেখা যাবে।
Windows key + Ctrl + D: নতুন ভার্চুয়াল ডেস্কটপ তৈরি হবে।
Windows key + Ctrl + F4: চালু থাকা ভার্চুয়াল ডেস্কটপ বন্ধ হবে।
Windows key + Ctrl + left or right arrow: ভার্চুয়াল ডেস্কটপ বদলাবে।
সাধারণ শর্টকাট
Windows key (উইন্ডোজ ৭ ও পরের সংস্করণ): স্টার্টমেন্যু খুলবে/বন্ধ হবে।
Windows key + X (উইন্ডোজ ৮.১ ও ১০): স্টার্ট বোতামে ডান ক্লিক করলে যে মেন্যু আসে, তা দেখা যাবে।
Windows key + left or right arrow (উইন্ডোজ ৭ ও পরের সংস্করণ): চালু থাকা উইন্ডোর ডানে-বাঁয়ের পর্দাজুড়ে দেখা যাবে।
Windows key + E (উইন্ডোজ ৭ ও পরের সংস্করণ): দ্রুত ফাইল এক্সপ্লোরার চালু করে ফাইলপত্রের কাজ করা যাবে।
Windows key + L (উইন্ডোজ ৭ ও পরের সংস্করণ): ডেস্কটপ লক করা যাবে।
Alt + PrtScn (উইন্ডোজ ৭ ও পরের সংস্করণ): চালু থাকা উইন্ডোর স্ক্রিনশট নেওয়া যাবে, ক্লিপবোর্ডে কপি করা যাবে।
Windows key + Printt Screen (উইন্ডোজ ৮.১ ও ১০): ডেস্কটপের পুরো পর্দার ছবি (স্ক্রিনশট) নেওয়া যাবে। এগুলো জমা হবে ComputerPicturesscreenshots ফোল্ডারে।
ব্রাউজার-ভিত্তিক শর্টকাট (এজ এবং অন্যান্য)
Ctrl + T: নতুন ট্যাব খুলবে।
Ctrl + D: ওয়েবপেজ চিহ্নিত (বুকমার্ক) করা যাবে।
Ctrl + L: বর্তমানে চালু থাকা ওয়েব ঠিকানা নির্বাচন করবে, ফলে দ্রুত নতুন ঠিকানা লিখতে বা সেটা কপি করতে কাজে লাগবে।
Ctrl + Tab: চালু থাকা ট্যাবে একটা থেকে অন্যটায় যাওয়া করা যাবে।
Ctrl + Enter: ব্রাউজারের ওয়েব ঠিকানা লেখার ঘরে শুধু মূল ঠিকানা লিখে কন্ট্রোল + এন্টার চাপলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে www. এবং .com যুক্ত হয়ে যাবে। যেমন google লিখে Ctrl + Enter চাপলে সেটা www.google.com হয়ে যাবে।
কি-বোর্ড শর্টকাট পাওয়া যাবে https://goo.gl/hYKHFa ঠিকানায়।

অনলাইনে কাজ পাওয়ার কিছু কৌশল


ইন্টারনেটে আউটসোর্সিংয়ের কাজ দেওয়া-নেওয়ার ওয়েবসাইট (অনলাইন মার্কেটপ্লেস)। মুক্ত পেশাজীবীরা (ফ্রিল্যান্সার) এসব সাইট থেকে কাজ নিয়ে থাকেন। কিছু কৌশল জানা থাকলে কাজ পাওয়াটা হয় সহজ।

  • কেউ কেউ আছেন, যাঁরা চার-পাঁচটা কাজের (জব) জন্য আবেদন করেই কাজ পেয়ে যান। আবার কেউ কেউ আছেন, যাঁরা ১০০টা আবেদন করেও পান না। এটা অনেকটা নির্ভর করে আপনি কত কম অর্থে (ডলার) কাজটি করে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তার ওপর।
  • যেসব বায়ারের পেমেন্ট মেথড ভেরিফায়েড না, তাদের কাজে আবেদন করবেন না। কারণ, কোনো কনট্রাক্টরকে ভাড়া করতে হলে বায়ারের পেমেন্ট মেথড ভেরিফায়েড হতে হয়।
  • কোনো একটা কাজ দেওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সেটিতে আবেদন করবেন ততই ভালো। তবে আবেদন করার সময় কাভার লেটারটি এমনভাবে লিখবেন, যেন বায়ার বুঝতে পারে আপনি কাজটির বর্ণনা পড়েছেন এবং তা করতে পারবেন।
  • আপনি যত বেশি মার্কেটপ্লেসে থাকবেন, ততই আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা। কারণ, কিছু কিছু কাজ আছে যেগুলো মার্কেটপ্লেসে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে (এক-দুই ঘণ্টার মধ্যে) সম্পন্ন করে জমা দিতে হয়। যেমন ফেসবুকে বা অন্য কোনো সাইটে ভোট দেওয়া এবং কিছু ভোট সংগ্রহ করে দেওয়া বা হঠাৎ করে কোন ওয়েবসাইটে সমস্যা হয়েছে, তা ঠিক করে দেওয়া ইত্যাদি। কাজেই শুরুতে বেশি সময় অনলাইনে থাকার চেষ্টা করুন, যাতে বায়ার আপনাকে কোনো বার্তা পাঠালে সঙ্গে সঙ্গেই আপনি তার জবাব দিতে পারেন। তাহলে বায়ার বুঝতে পারবে, আপনি কাজের প্রতি আন্তরিক।
  • অনলাইন মার্কেটপ্লেসে দেখবেন, প্রতি মিনিটে নতুন নতুন কাজ দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতে আবেদন করুন। যেসব কাজে কোনো কনট্রাক্টরের ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছে, সেসবে আবেদন না করাই ভালো।
  • যেসব কাজে শর্ত দেওয়া রয়েছে, আর সেগুলো যদি আপনি পূরণ করতে না পারেন, তবে সেসব কাজে আবেদন না করাই ভালো। যেমন Feedback Score: At least 4.00 এবং oDesk Hours: At least 100 hour।
  • যাঁরা ওডেস্কে দু-তিনটা কাজ করেছেন, এখন বেশি ডলার দাম ধরে আবেদন করতে চান, তাঁরা যে কাজের জন্য আবেদন করবেন, তার নিচে দেখুন বায়ারের আগের কাজগুলোর তালিকা দেওয়া আছে। সেখানে যদি দেখেন, বায়ার তার আগের কাজগুলোতে বেশি ডলার দিয়ে অন্য কনট্রাক্টরকে কাজ দিয়েছিল, তবে বেশি ডলার হারে আবেদন করতে পারেন।