আজ
রাতে
যে
মেয়েটি
মারা
যাবে
তার
পছন্দের
ফুল
জবা। তার ক্যাবিনে অনেক গুলো জবা ফুল সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এই কাজটি যে করেছে তার দুটি পরিচয় আছে। প্রথমটি হল তিনি এই রোগীটির ডাক্তার। দ্বিতীয়টি হল এই মেয়েটি তার স্ত্রী। গতকাল বিয়ে করেছেন। একজন মৃত্যুপথ যাত্রিকে বিয়ে করার বিষয়টিকে তিনি পাগলামি মনে করছেন না। এই মেয়েটি তার সাথে সাতশ তেরো রাত জেগে ছিল। ভোরের দিকে যখন সে ঘুমিয়ে যেত তখনও মেয়েটি ফোন সেট কানে দিয়ে রেখেছে। মাঝে মাঝে ঘুমের ভেতরে তার কথা বলার অভ্যাস; তখন মেয়েটি ফিসফিস জবাব দেয়; ‘ভয় পেও না, আমি আছি’। বছর তিনেক আগে তার বাবা রোড এক্সিডেন্টে মারা গেলেন। মেয়েটি তাকে সান্ত্বনা দিতে এসে নিজেই কেঁদে অস্থির। একদম চোখ ফুলিয়ে, কিছু না খেয়ে থাকল দু দিন। কুরআন খতম দিল। শেষ রাতে ওজু করে তাহাজ্জুদের নামজ পড়ে বলেছে ' ‘ভয় পেও না, আমি আছি’ মেডিক্যাল হোস্টেলে থাকা অবস্থায় এই মেয়েটি প্রতি রবিবার তার হাতের রান্না টিফিন ফ্লাক্সে করে দিয়ে যেত। এক্সামের আগে একটা একটা চ্যাপটার মুকস্ত করে তাকে পড়া দিতে হত। একজন সারারাত পড়েছে; সে ডাক্তার হবে। অন্যজন সারা রাত জেগেছে সে কাছের মানুষটিকে সফল দেখতে চায়। এই মেয়েটিকে সে অনেকবার কথা দিয়েছে। পকেটে যখন টাকা ছিল না তখন দিয়েছে, রবিবার টিফিন ফ্লাক্স হাতে পেয়ে কথা দিয়েছে। একশ চার ডিগ্রী জ্বর নিয়ে কথা দিয়েছে; এই মৃত্যু পথ যাত্রী মেয়েটিকে বিয়ে করার বিষয়টিকে তিনি মোটেও পাগলামি মনে করছেন না। আজ রাতে এই মেয়েটিকে বারবার বলা দরকার , ‘ভয় পেও না, আমি আছি’ ......কোন এক যুদ্ধে একজন যোদ্ধা গুলি খেয়ে মাটিতে পরে গেল। তার পাশের সৈনিক তাকে যখন কাঁধে নিয়ে নিরাপদ জায়গায় যাবার চেষ্টা করছিল তখন তাদের ক্যাপ্টেন তাকে নিষেধ করল। ''যে গুলি খেয়েছে সে এমনিতেই মারা যাবে; তাকে বাঁচাতে গিয়ে তুমি নিজেও মারা যাবে''। সৈনিকটি ক্যাপ্টেনের কথা না শুনে আহত যোদ্ধাকে কাঁধে নিয়ে ছুটলেন। যুদ্ধ শেষ হল। আহত যোদ্ধাটি একসময় মারা গেল; ক্যাপ্টেন তাকে বলল, ''তাকে কাঁধে নিয়ে এত রিস্ক নিয়ে কী লাভ হয়েছে? সে তো ঠিকই মারা গেল''। সৈনিকটি জবাব দিল, ''অনেক কিছুই হয়েছে। মরে যাবার আগে তার শেষ কথা ছিল - বন্ধু আমি জানি তুমি ঠিকই আমার পাশে থাকবে।'' সুনীলের কেউ কথা রাখে না কবিতার ভিড়েও কেউ কেউ ঠিকই আছে, যারা মানুষকে দেয়া কথা গুলো রাখার সময় ক্যালকুলেটার নিয়ে প্লাস মাইনাস হিসেব করে না। হিসেব জানা ভাল। নাহলে বাজারের বিক্রেতা ঠকিয়ে দিবে। সবাই বিক্রেতা না। সবাই তোমার কাছে বাণিজ্য করতে আসে নি। কেউ দুচোখে কাপড় বেধে অন্ধের মত ভালবাসতে এসেছে ; তার সাথে বাণিজ্যে যেও না। হিসেব করে ব্যবসা হয় ; ভালবাসা না।
ইন্টারনেটে আউটসোর্সিংয়ের কাজ
দেওয়া-নেওয়ার ওয়েবসাইট (অনলাইন মার্কেটপ্লেস)। মুক্ত পেশাজীবীরা
(ফ্রিল্যান্সার) এসব সাইট থেকে কাজ নিয়ে থাকেন। কিছু কৌশল জানা থাকলে কাজ
পাওয়াটা হয় সহজ।
- কেউ কেউ আছেন, যাঁরা চার-পাঁচটা কাজের (জব) জন্য আবেদন করেই কাজ পেয়ে যান। আবার কেউ কেউ আছেন, যাঁরা ১০০টা আবেদন করেও পান না। এটা অনেকটা নির্ভর করে আপনি কত কম অর্থে (ডলার) কাজটি করে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তার ওপর।
- যেসব বায়ারের পেমেন্ট মেথড ভেরিফায়েড না, তাদের কাজে আবেদন করবেন না। কারণ, কোনো কনট্রাক্টরকে ভাড়া করতে হলে বায়ারের পেমেন্ট মেথড ভেরিফায়েড হতে হয়।
- কোনো একটা কাজ দেওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সেটিতে আবেদন করবেন ততই ভালো। তবে আবেদন করার সময় কাভার লেটারটি এমনভাবে লিখবেন, যেন বায়ার বুঝতে পারে আপনি কাজটির বর্ণনা পড়েছেন এবং তা করতে পারবেন।
- আপনি যত বেশি মার্কেটপ্লেসে থাকবেন, ততই আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা। কারণ, কিছু কিছু কাজ আছে যেগুলো মার্কেটপ্লেসে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে (এক-দুই ঘণ্টার মধ্যে) সম্পন্ন করে জমা দিতে হয়। যেমন ফেসবুকে বা অন্য কোনো সাইটে ভোট দেওয়া এবং কিছু ভোট সংগ্রহ করে দেওয়া বা হঠাৎ করে কোন ওয়েবসাইটে সমস্যা হয়েছে, তা ঠিক করে দেওয়া ইত্যাদি। কাজেই শুরুতে বেশি সময় অনলাইনে থাকার চেষ্টা করুন, যাতে বায়ার আপনাকে কোনো বার্তা পাঠালে সঙ্গে সঙ্গেই আপনি তার জবাব দিতে পারেন। তাহলে বায়ার বুঝতে পারবে, আপনি কাজের প্রতি আন্তরিক।
- অনলাইন মার্কেটপ্লেসে দেখবেন, প্রতি মিনিটে নতুন নতুন কাজ দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতে আবেদন করুন। যেসব কাজে কোনো কনট্রাক্টরের ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছে, সেসবে আবেদন না করাই ভালো।
- যেসব কাজে শর্ত দেওয়া রয়েছে, আর সেগুলো যদি আপনি পূরণ করতে না পারেন, তবে সেসব কাজে আবেদন না করাই ভালো। যেমন Feedback Score: At least 4.00 এবং oDesk Hours: At least 100 hour।
- যাঁরা ওডেস্কে দু-তিনটা কাজ করেছেন, এখন বেশি ডলার দাম ধরে আবেদন করতে চান, তাঁরা যে কাজের জন্য আবেদন করবেন, তার নিচে দেখুন বায়ারের আগের কাজগুলোর তালিকা দেওয়া আছে। সেখানে যদি দেখেন, বায়ার তার আগের কাজগুলোতে বেশি ডলার দিয়ে অন্য কনট্রাক্টরকে কাজ দিয়েছিল, তবে বেশি ডলার হারে আবেদন করতে পারেন।







